# গল্পকার -- অভিষেক সাহা
" সে একেবারে এলাহি ব্যাপার!" একগাল হেসে সিমেন্ট বাঁধানো বেঞ্চে বসে মাস্কটাকে থুতনিতে নামিয়ে চায়ের ভাঁড়ে চুমুক দিয়ে বলল রজত।
" প্রথম থেকে বল, একটুও এডিট করো না রজত দা ।বিয়ের দশ বছর পরেও এলাহি ব্যাপার ! " অবাক হয়ে বলল হিমু।
" শাশুড়ি মা বলেছেন, তিনি যতদিন আছেন এমনই চলবে, একমাত্র জামাইয়ের কোন অনাদর হবে না ।" রজতের চোখ দু'টো আনন্দে চকচক করে উঠলো।
" বললাম ফুটেজ খেও না , সেই ফালতু ফুটেজ খাচ্ছো। মেন পয়েন্টে এসো!" কিছুটা বিরক্ত হয়ে বলল হিমু।
" গত পরশু জামাইষষ্ঠীতে তোর বৌদিকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে সক্কাল সক্কাল পা রাখা মাত্রই আপ্যায়ন শুরু, বুঝলি। দেখি আমার একমাত্র শালাবাবুও রয়েছে আমাদের জন্য । বিকেলে বৌ নিয়ে ওর শ্বশুরবাড়ি গেল। খুব ভালোবাসে তো দিদি- জামাইবাবুকে, তাই! " চা শেষ করে, একটা সিগারেট ধরিয়ে বলতে শুরু করল রজত " প্রথমে এল চার রকম মিষ্টি আর ফল। ফলের মধ্যে ছিল হিমসাগর আম, কাঁঠাল আর লিচু। তারপর লাঞ্চে ইলিশ মাছ আর খাসির মাংস দু'টোই !"
" আর ডাল, পাঁচ রকমের ভাজা এসব কিছু ছিল না ?" জানতে চাইল হিমু।
" দূর ব্যাটা, থাকবে না কেনও, মাছের মাথা দিয়ে ডাল, ভাজা, শেষ পাতে মিষ্টি দই আর সাদা পান, সব ছিল।" আশ্বস্ত করে বলল রজত।
" উরিব্বাস, এক সঙ্গে ইলিশ মাছ আবার খাসির মাংস! ক'টা হজমের ট্যাবলেট খেলে গো রজত দা!" মুচকি হেসে বলল হিমু।
" একটাও না! আমার সিস্টেম দারুন স্ট্রং! ওই সাদা পানই যথেষ্ট। আমার তো সব জানলি এবার নিজেরটা বল! তোর কেমন কাটল ?" এবার জানতে চাইল রজত।
" খুব খারাপ। আমি তো যেতেই পারিনি এই লকডাউনের জন্য। গত বছরও পারিনি, এবারো পারলাম না !" হতাশ হয়ে বলল হিমু।
" সত্যি খুবই খারাপ। তোর থেকেও আমার তোর বৌয়ের জন্য বেশি খারাপ লাগছে রে । এমন একটা দিনে বাপের বাড়ি যেতে পারল না মেয়েটা ! তা তোর শ্বশুরবাড়ি কী ট্রেন লাইনে? " জিজ্ঞেস করল রজত।
" না।" সংক্ষিপ্ত উত্তর দিল হিমু।
" তবে কী বাস রুটে? ট্যাক্সি যেত না ?" আশ্চর্য হয়ে বলল রজত।
" না গো না। বাস, অটো, ট্যাক্সি, রিক্সা কিছুই যেত না !" গলা তুলে বলল হিমু।
" সেকিরে ,তোর শ্বশুরবাড়ি কী চাঁদে না মঙ্গলগ্রহে ?" মজা করে বলল রজত।
নীচু গলায় হিমু বলল ," আমি তো এখনও বিয়েই করিনি !"

0 Comments