# গল্পকার -- অভিষেক সাহা
" আজকেও লেট ! আধঘন্টা ধরে আমি একা বসে আছি! আজকে তোর পানিশমেন্ট পাক্কা !" রাগে- অভিমানে গজগজ করতে করতে নীলাভ বলল।
" প্লিজ সোনা, রাগ করিস না। কী করব বল, আমি কী ইচ্ছে করে লেট করি। আমাদের অফিসে যে নতুন বস এসেছেন, মিঃ সেনশর্মা, ওনার সবকিছু শেষ বেলায় মনে পড়ে। না তো বলতে পারি না। অফিস থেকে বেরিয়ে প্রথমে হেঁটে, তারপর মেট্রো চড়ে আবার হেঁটে আমার সোনাটার কাছে এলাম।" অপলা কারণ ব্যাখ্যা করে বোঝানোর চেষ্টা করল।
" জানিস তো, সরোবরে আজ অনেক দিন পর ফাউন্টেন চালিয়েছিল। সেই আমাকে একা বসে দেখতে হল। তোর শাস্তি বাঁধা, দশ মিনিট তোর সাথে কথা বলব না !" নীলাভ নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকল।
" বেশ কথা বলতে হবে না। তোর পাশে বসে , তোর হাতে হাত রেখে, এই সন্ধ্যাবেলায় আলো- অন্ধকারের মত আমাদের ছোঁয়াছুঁয়ি খেলতে তো অসুবিধা নেই!" বলেই অপলা সরোবরের জলের পাশে সিমেন্ট বাঁধানো বেঞ্চে যেখানে নীলাভ বসে আছে ওর পাশে বসল, ওর হাতে হাত রাখল।
" তুই তো জানিস, নীলাভ যতই অভিমান করুক, তুই ছুঁয়ে দিলেই ব্যস্ , নীলাভ গলে জল হয়ে যাবে আর তুই মাফ পেয়ে যাবি! কতদিন বলেছি আমার নতুন বাইকটা শেষ একবছর ধরে আমাদের বাড়ির গ্যারেজে পড়ে পড়ে ধুলো খাচ্ছে, তুই ওটা নিয়ে অফিস যা, তোর তো লাইসেন্স আছে, অসুবিধা কোথায় ?" নীলাভ একটু শান্ত হল।
" এবার কিন্তু আমি সত্যিই তোর সাথে কথা বলব না । বলেছি না বাইকের কথা তুলবি না। আমার ভালো লাগে না। তারচেয়ে বরং দেখ আশপাশে সবাই কেমন প্রেম করছে, আমরাও করি!" অপলা খুশি ঢালা গলায় বলল।
" সে তো ঠিকই, সারাদিনে এইটুকুই তো সময়। তোর বাড়ির সবাই তো আমার কথা জানে, তোকে কিছু বলছে না ?" নীলাভ জানতে চাইল।
" ওদের কথা বাদ দে, একই সিডি রোজ চালায়। বলে যা করেছিস ভুলে যা, একটা ভালো ছেলে দেখে সেটেল হয়ে যা। আমি বলেছি বিয়ে করব না, তাও। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, জার্নালিস্ট কতরকমের ছেলে এনে প্রতিদিন হাজির করছে , তুই জাস্ট ভাবতে পারবি না ! " কথাগুলো বলেই হো হো করে হেসে উঠলো অপলা।
" তা তুই করে নে। কে বাধা দিচ্ছে!" শান্ত গলায় বলল নীলাভ।
" ফালতু বকা থামা, ওই যে লেমন টি-ওয়ালা আসছেন, ওনাকে ডাক, এসে থেকে অনেক বকিয়েছিস, গলা শুকিয়ে কাঠ।" নীলাভর কথায় পাত্তা না দিয়ে অপলা উত্তর দিল।
ডাকতে হল না। চা-ওয়ালা নিজে থেকেই এল। অপলা দু'কাপ চায়ের অর্ডার দিল।
" আরেকজন?" চা দিতে দিতে অবাক হয়ে চা-ওয়ালা জানতে চাইল।
" আছে ।" মুচকি হেসে বলল অপলা।
চা-ওয়ালা এগিয়ে গেল।
লেমন টি-তে চুমুক দিয়ে তৃপ্তির স্বাদ নিয়ে নীলাভ অপলার কাঁধে মাথা রেখে চাপা গলায় বলল ," তুই ওনাকে বললি না কেনও, গত বছর বাইক অ্যাক্সিডেন্টে আমি কায়া থেকে ছায়া হয়ে গেলেও, সরোবরের জলের মিষ্টি হাওয়ায় তোর পাশে বসে এই লেমন টি খাওয়ার সুখটুকু ছেড়ে আমি অন্য কোথাও যেতে পারিনি ! "

0 Comments