এক স্ফুলিঙ্গের দাবানলে রূপান্তর!
তন্ময় সিংহ রায়
'আপনারা ভাগ্যবান , আমার মতন দেশপ্রেমিকের গলায় ফাঁসির দড়ি পরাতে পারছেন।'
ভগৎ সিং
'আমার শরীরে করা ব্রিটিশের এই প্রহার
ব্রিটিশদের ধ্বংসের কারণ হয়ে উঠবে!' দুঃখ-যন্ত্রণা , রাগ ও ক্ষোভের আগুনে জ্বলতে থাকা দূরদর্শীসম্পন্ন , কিংবদন্তি পাঞ্জাব কেশরি'র এই মন্তব্যই কিন্তু একসময় মহাকাল হয়ে বাস্তবে নেমে এসেছিল ব্রিটিশদের সাদা কপালে!
ভারতীয় ভূখন্ডে অবৈধ ব্রিটিশ শাসন চলাকালীন ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সাতজন সদস্য দ্বারা গঠিত
এক কমিশন যথারীতি এসে পৌঁছায় ভারতে।
উদ্দেশ্য?
ভারত দায়িত্বসম্পন্ন সরকার গঠনের উপযুক্ত হয়েছে কি না , সে ব্যাপারে সাংবিধানিক পুনর্গঠনের অধ্যয়ন , অর্থাৎ পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক সুকৌশলকে প্রয়োগ করে এক অবাধ হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তাঁদের রাজত্বকে আরও মজবুত ও সুপ্রতিষ্ঠিত করা।
অর্থাৎ সেই উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ সরকার
ইংল্যান্ডের উদারপন্থী দলের একজন সাংসদ , খ্যাতনামা আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ স্যর জন সাইমনের নেতৃত্বে সাত শ্বেতাঙ্গ এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যবিশিষ্ট এক কমিশন ভারতের সাংবিধানিক সংস্কারের জন্যে এসে উপস্থিত হয় ভারতীয় উপমহাদেশে , যা ভারতের ইতিহাসে কুখ্যাত 'সাইমন কমিশন' নামে!
কেন কুখ্যাত?
ভারত ও পূর্ব এশিয়ায় বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডের একদল বণিক সম্প্রদায় ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে গঠন করে ইস্ট ইন্ডিয়া
কোম্পানি , আর সেই বছরের একেবারে শেষে , ৩১ ডিসেম্বর রাণী প্রথম এলিজাবেথ আবার ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে প্রদান করে রাজকীয় সনদ।
কারণ?
ভারতীয় উপমহাদেশে যাতে তাঁরা বাণিজ্য করতে পারে।
যদিও সেই সনদ কোম্পানিকে পূর্ব ভারতে একচেটিয়া বাণিজ্য করার প্রাধিকার অর্পণ করেছিল শুধুমাত্র ২১ বছর পর্যন্ত।
অতঃপর কোম্পানি সেই ব্যবসা-বাণিজ্যে মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যকে প্রধান হাতিয়ার করে তাঁদের চারিত্রিক ছদ্মবেশে ধীরে ধীরে ঢুকে পড়েছিল ভারতের মূল ভূখণ্ডে! এবং অবিভক্ত ও বিস্তীর্ণ এই ভূখণ্ডের দুর্বলতার মাথার উপরে জাঁকিয়ে বসে অচিরেই তাঁরা শুরু করে বিভিন্ন দখলদারির মাধ্যমে কর্তৃত্ব প্রয়োগ , যা পরবর্তীতে পরিণত হয় স্বৈরাচারীতা ও নৃশংসতায়!
এদিকে জন সাইমনের নেতৃত্বে গঠন করা হয় যে সাত সদস্যবিশিষ্ট সাইমন
কমিশন , তাতে কোনো ভারতীয় সদস্যদের সামান্যতম স্থানও না দেওয়ায় ভারতীয়দের কাছে তা স্বাভাবিকভাবেই প্রতিভাত হয় জাতীয় অপমান রূপে ,
অর্থাৎ ভারতীয়দের আত্মমর্যাদায় পদাঘাত করে , ভারতীয় সংবিধান সংস্কারের উদ্দেশ্যে
শুধুমাত্র ইংরেজদের নিয়ে গঠিত হয়
এই কমিশন।
ফলস্বরূপ জাতীয় কংগ্রেস , হিন্দু মহাসভা ও মুসলিম লিগ থেকে শুরু করে নরমপন্থী লিবারেল ফেডারেশন পর্যন্ত গ্রহণ করে
এই কমিশন বয়কটের সিদ্ধান্ত।
অতঃপর ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে ৩ রা ফেব্রুয়ারি এই কমিশন বোম্বাইতে এসে উপস্থিত
হলে , শুরু হয় স্বতঃস্ফূর্ত ও তুমুল হরতাল!
কমিশনকে দেখানো হয় কালো পতাকা ও আকাশ-বাতাস আন্দোলিত করে যেন সর্বত্র প্রতিধ্বনিত হয় 'গো ব্যাক সাইমন!'
১৬ ই ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় আইনসভায় সরাসরি
কমিশন বাতিল করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন লালা লাজপৎ রায় এবং 'বন্দেমাতরম' ধ্বনির মাধ্যমে এই প্রস্তাব বিপুলভাবে হয় অভিনন্দিত!
সেই দিনটা ছিল ৩০ অক্টোবর ,
লাহোর জুড়ে শুরু হয় কমিশন বিরোধী এক সুসংগঠিত ও জোরালো প্রতিবাদ মিছিল!
পরিচালনার মাধ্যমে সে মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন বর্ষীয়ান জননেতা শ্রদ্ধেয় লালা লাজপৎ রায়।
এমত পরিস্থিতিতে পুলিশ সুপার জেমস
স্কট-এর নির্দেশে বিক্ষুব্ধ বিপ্লবীদের উপরে পুলিশ শুরু করে দেয় নির্বিচারে , এলোপাথাড়ি লাঠি চার্জ!
পুলিশের এই নির্মম প্রহারে অত্যন্ত গুরুতর জখম , এমনকি রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন লালা লাজপৎ রায়!
এরপর আর কোনোদিনও তিনি সুস্থ হতে
পারেন তো নি'ই , বরং ফলস্বরূপ ১৭ নভেম্বর ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে অনিচ্ছাকৃত ও মর্মান্তিক মৃত্যকে তিনি বরণ করেন নিঃশব্দে!
কিন্তু জেমস স্কটের নির্দেশে বিদ্রোহীদের উপরে এই পুলিশি অত্যাচারের বিষয়টাকে একেবারে অস্বীকার করে যায় ব্রিটিশ আদালত পর্যন্ত!
পরোক্ষভাবে লালা লাজপৎ রায়ের অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও মর্মস্পর্শী এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সমগ্র দেশ জুড়ে বয়ে চলে উত্তেজনা ও ক্ষোভ-অনুতাপ ও অসন্তোষের বিপুল ঝড়!
চন্দ্রশেখর আজাদ , সেই পদযাত্রায় উপস্থিত থাকা ভগৎ সিং , সুখদেব থাপার ও শিবরাম রাজগুরুর মতন বীরশ্রেষ্ঠ স্বাধীনতা সৈনিকরা এই জঘন্যতম অন্যায়ের প্রতিবাদস্বরূপ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে উদ্যত হয় যেভাবেই হোক স্কট'কে হত্যার মাধ্যমে এই মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে।
স্কটকে সনাক্ত করে ভগৎ সিং-কে গুলি করার সংকেত প্রদানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হন জয় গোপাল নামক আর এক অনামী স্বাধীনতা যোদ্ধা।
কিন্তু ১৯২৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর লাহোর জেলা পুলিশ সদরদপ্তর থেকে বেরোনোর সময় ভুলবশতঃ , জয় গোপাল অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট জন পি. সন্ডার্সকে দেখে নিশ্চিন্তে ভেবে বসেন পুলিশ প্রধান স্কট ,
ও পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি তৎক্ষনাৎ সংকেত দিয়ে বসেন ভগৎ সিং-কে গুলি করার।
ফলশ্রুতিতে জন পি. সন্ডার্স মারা যান গুলিবিদ্ধ হয়ে!
সামান্য ভুলের কারণে প্রাণে বেঁচে যান পুলিশ সুপার ও ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আর এক প্রধান শত্রু সেই জেমস স্কট।
অপরদিকে চন্দ্রশেখর আজাদের গুলিতে
নিহত হন এক ভারতীয় কনস্টেবল চনন সিং!
বিশেষত জন পি সন্ডার্সকে হত্যার অভিযোগে অবশেষে ভগৎ সিং , সুখদেব ও রাজগুরুর বিরুদ্ধে আদালতে শুরু হয় জোরদার বিচার প্রক্রিয়া!
সেই সময়ের ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড আরউইন , এবং এই মামলার
জন্য তিনিই আয়োজন করেছিলেন এই বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-এর।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে দাঁড়ি টেনে অবশেষে আদালত ঘোষণা করে তিন মহান বিপ্লবীর মৃত্যুদণ্ডের রায়!
২২ মার্চের রাত!
সেই রাতের মধ্যেই ভারতের তিন বীর সন্তান ভগত সিং , রাজগুরু ও সুখদেবকে লাহোর কারাগারে ফাঁসি দেওয়ার একান্ত ইচ্ছায় ব্রিটিশ সরকার আগে থেকেই সেরে ফেলেছিল সমস্ত প্রস্তুতি।
এদিকে তিন সিংহপুরুষের ফাঁসির এই খবর গোটা দেশে দাউ দাউ করে ছড়িয়ে পড়ে আগুনের মতন!
কিন্তু ২৩ মার্চ নির্ধারিত সময়ের ১১ ঘণ্টা আগেই ঝুলিয়ে দেওয়া হয় তাঁদের ফাঁসির দড়িতে!
এখানে জানিয়ে রাখা ভালো যে ,
সেই First information report বা FIR-এ কিন্তু আদৌ ছিল না ভগৎ সিং-এর কোনও নাম।
তবে ঠিক কী ঘটেছিল সেই দিন?
১৯৩১ সালের ২৩ মার্চ নির্ধারণ করা হয় ভগৎ সিং , সুখদেব ও রাজগুরুর ফাঁসির দিন হিসেবে!
কিন্তু এর ফলে সমগ্র দেশবাসী যেভাবে গর্জে উঠেছিলেন ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে , তাতে তাঁরা রীতিমতন হয়ে পড়েন ভীত-সন্ত্রস্ত , আর সে কারণেই নির্দিষ্ট দিনে , নির্ধারিত সময়ের আগেই সন্তর্পণে তাঁদের ফাঁসি দিতে মরিয়া হয়ে পড়েন ব্রিটিশ শাসকরা।
ভাবলে বিস্মিত হতে হয়!
জাট-শিখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করা ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বড় হতে থাকা
এই অকুতোভয় চার বছরের সন্তান ভগৎ সিং-এর সামান্য শব্দ উচ্চারণের ক্ষমতার মধ্যে দিয়ে মন থেকে সেদিন বেরিয়ে আসে এমন এক মন্তব্যের স্ফুলিঙ্গ , তাতেই কিছুটা আন্দাজ করা বোধহয় গেছিল যে , ভবিষ্যতে তা রূপান্তরিত হতেই পারে দাবানলে!
আর বাস্তবে হয়েছিলও তো তাই।
তিনি বলেছিলেন যে , তিনি মাটিতে পুঁতবেন রাইফেলের গাছ , এবং সেই গাছের ফলন হওয়া রাইফেল দিয়ে তিনি তাড়াবেন ব্রিটিশদের।
শুধু তাই নয় , মাত্র ১২ বছর বয়সে জালিয়ানওয়ালাবাগের ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ড এই কিশোর ভগতের মনে সৃষ্টি করেছিল এক তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া!
কৈশোরেই ইউরোপীয় বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাস সম্পর্কে পড়াশোনায় মগ্ন হয়ে পড়েন
তিনি , ও আকৃষ্ট হন নৈরাজ্যবাদ এবং কমিউনিজমের প্রতি!
বলাবাহুল্য দেশপ্রেমে মাতোয়ারা হয়ে মাত্র তেরো বছর বয়সে ভগৎ সিং যোগদানও করে বসেন মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনে , এবং সেই সময় তিনি ব্রিটিশ রাজশক্তির বিরোধিতা করেন একেবারে প্রকাশ্যেই।
প্রায় ছেলেবেলা থেকেই ব্রিটিশদের উপরে রাগ-ক্ষোভ ও ঘৃণার বারুদ ধীরে ধীরে সঞ্চিত হতে শুরু করেছিল তাঁর অন্তরে এতটাই যে ,
তিনি তাঁর সরকারি স্কুলের বই ও বিলিতি স্কুল ইউনিফর্ম পর্যন্ত পুড়িয়ে ছাই করে ফেলেন।
দীর্ঘ বছর দুই জেলে থাকাকালীনও ভগত সিং পড়তেন বহু বইপত্র ও রচনা করেছেন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বইও।
১৯৩১ সালের ২২ মার্চ আনুমানিক সন্ধ্যা
৬.০০ টা থেকে ৬.৩০ , এমনই গভীর মনসংযোগে তিনি পড়ছিলেন লেনিনের জীবনী।
হঠাৎ'ই কারাগার কর্তৃপক্ষ এসে খবর
দেন , তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই , আর সে অনুযায়ী প্রস্তুত থাকতে হবে!
সে মুহূর্তেই ভগৎ সিং তাঁকে অন্য আর এক বিপ্লবীর সাথে দেখা করতে বলে , মিনিট খানেকের মধ্যে সিলিং-এর দিকে সেই বইটা সটান ছুঁড়ে দিয়ে বলেন 'ঠিক আছে , এবারে চলুন।'
সর্বশেষ সন্ধ্যা ৭.৩৩ নাগাদ পিছনে হাত বাঁধা ও মুখ ঢাকা অবস্থায় , ফাঁসির মঞ্চে এই তিন অপরাজেয় ও দুর্দমনীয় বিপ্লবীর পায়ের নিচ থেকে সরে যায় আশ্রয়ের পাটাতন ও নিস্তেজ হয়ে ঝুলে পড়ে অমূল্য দেহগুলো!
পরাধীন ভারত মা'কে স্বার্থলোভী ও বর্বর ব্রিটিশদের প্রসস্থ ও হিংস্র থাবা থেকে মুক্ত করার বাসনা ছিল তাঁদের এতটাই তীব্র
যে , শেষ পর্যন্ত মৃত্যুও সেখানে যেভাবে প্রমাণিত হয়েছিল তুচ্ছ , তা ব্রিটিশদের কালো অন্তরকেও ভাবিয়ে তুলেছিল যথেষ্ট।
ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার সময় ভগত সিং ,
সুখদেব এবং রাজগুরু আনন্দে গেয়েছিলেন গান পর্যন্ত!
ছোটো একটা নাম ভগৎ সিং , ততোধিক ছোটো জীবন , অথচ ব্যাপ্তি যেন এক অনন্ত মহাবিশ্ব!
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাতে বাধ্য হচ্ছি যে , বিশেষত ভারতীয় সংস্কৃতি ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে যে দিকে , আগামী পঞ্চাশ অথবা একশো বছর পরে গিয়ে হয়তো এই নক্ষত্রসমূহ অনিচ্ছাকৃত বিলুপ্ত হয়ে যাবে ভারতবাসীর মনের পরিবেশ থেকে!
আর কোনো সরকার'ই এ ব্যাপারে বোধহয় আজও নয় অন্যান্য কিছু বিশেষের মতন এ বিষয়েও প্রকৃত সচেতন ও মানবিক!
এ পৃথিবীতে কিছু অমূল্য থেকে থাকে এমন , যা ভোটবাজারে ছল-চাতুরী বা বুদ্ধি প্রয়োগের মাধ্যমে , স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে এবং নিপুণ দক্ষতায় জোর করে বেচার চেষ্টা করাটাও বিবেচিত হয় গর্হিত অপরাধ হিসেবে ,
ও নিজের মনুষ্যত্বকে স্ব-ইচ্ছায় পরোক্ষভাবে প্রকাশ্যে উলঙ্গ করার মতন।
জাতির জনক হিসেবে বিবেচিত মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী নাকি এতটাই
মরিয়া ছিলেন এই তিন বিপ্লবীকে প্রাণে বাঁচাবার উদ্দ্যেশ্যে যে , ২৩ তারিখ সকালেও এই মৃত্যুদণ্ড আটকাবার জন্য ভাইসরয়কে তিনি চিঠি পাঠান ব্যক্তিগতভাবে।
এর আগে করাচি যাত্রা পিছিয়ে দিয়ে যথাক্রমে ১৮ ১৯, ২১, ও ২২ মার্চ তিনি ভাইসরয়ের সঙ্গে দেখা করে বারংবার সেই একই অনুরোধ করেন!
ছেলেবেলায় একটা কথা শুনেছিলাম যে ,
'আমি চোরকে বললাম নিশ্চিন্তে চুরি
করতে ও গৃহস্থকে করে দিলাম সজাগ!'
হয়তো এক্ষেত্রে বিষয়টা ঠিক এমনও পারে হতে।
মহাত্মা গান্ধী হয়তো বুঝেছিলেন ,
ভগত সিং এর মৃত্যুদণ্ডকে যদি দাবি করা হয় লঘু কোনো দণ্ড হিসেবে , তা ভবিষ্যতে দেশের বৃহত্তর স্বার্থের পরিপন্থী হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায় প্রবল।
এ প্রসঙ্গে করাচিতে কংগ্রেস প্রতিনিধিদলের বৈঠকের আগে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভগত সিং এর ফাঁসি কার্যকর করার বিষয়ে গান্ধীজি তো 'তরুণ ভারত' নামক এক অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রাচীন মারাঠি সংবাদপত্রে বোধহয় উল্লেখও করেছেন যে ,
'আমি হয়তো বিষয়টা নিষ্পত্তি করার একটা প্রক্রিয়া হিসেবে দণ্ডকে লঘু করার প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারতাম , কিন্তু এটা করা সম্ভব হত না।
এ ব্যাপারে কার্যসভা আমার সাথে একমত পোষণ করেছে যে , সাময়িক শান্তিচুক্তির নজির হিসেবে দণ্ড লঘু করার প্রস্তাব পেশ করাটা সঠিক হবে না ,
আর তাই আমি বিষয়টা পারতাম কেবলমাত্র উল্লেখ'ই করতে।'
সর্বোপরি সহিংস আন্দোলনকে তিনি মনে-প্রাণে ঘৃণা
করতেন , অথচ
যে পট্টভি সীতারামাইয়াকে নির্বাচনে হারিয়ে ভোটে জয়লাভ করে সিংহপুরুষ সুভাষ চন্দ্র বসু নির্বাচিত হন কংগ্রেসের সভাপতি ,
সেই প্রার্থীকেই তিনি সমর্থন করেছিলেন একান্তভাবে , সুভাষ বোসকে নয়!
তবে এটা কি অভেদ্য ও বিশ্ববন্দিত সুভাষ চন্দ্র বসুকে ভালোবেসে?

0 Comments